মধু দিয়ে ত্বক ফর্সা করার উপায় ও কার্যকর ফেসপ্যাক রেসিপি
মধু দিয়ে ত্বক ফর্সা করার উপায় এখন অনেকেরই আগ্রহের বিষয়, কারণ প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহার করে নিরাপদভাবে ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে সবাই চায়।
বাজারের কেমিক্যালযুক্ত প্রসাধনী ত্বকের ক্ষতি করতে পারে, তাই ঘরোয়া উপায়ে ত্বক ফর্সা ও উজ্জ্বল রাখার জন্য মধু একটি জনপ্রিয় ও কার্যকর সমাধান হিসেবে পরিচিত।
মধুতে রয়েছে প্রাকৃতিক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল ও ময়েশ্চারাইজিং গুণ, যা ত্বককে ভেতর থেকে পুষ্টি দেয়, দাগ হালকা করতে সাহায্য করে এবং ত্বকের প্রাকৃতিক গ্লো ফিরিয়ে আনে।
এই আর্টিকেলে আমরা জানবো মধু দিয়ে ত্বক ফর্সা করার উপায়, মধুর সাথে কোন উপাদান মিশিয়ে ব্যবহার করলে ভালো ফল পাওয়া যায়, এবং নিয়মিত ব্যবহারে কীভাবে ত্বক ধীরে ধীরে পরিষ্কার, মসৃণ ও উজ্জ্বল হয়ে ওঠে।
আপনি যদি কেমিক্যাল ছাড়া ঘরোয়া পদ্ধতিতে ত্বকের যত্ন নিতে চান, তাহলে এই নির্দেশনাগুলো আপনার জন্য খুবই উপকারী হবে।
.
মধু দিয়ে ত্বক ফর্সা করার উপায়
মধু দিয়ে ত্বক ফর্সা করার বিভিন্ন রকম উপায় রয়েছে যেগুলো জানলে আপনারা সঠিকভাবে ব্যবহার করে ত্বকের স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা ফিরিয়ে আনতে পারবেন। তবে চলুন মধু দিয়ে ত্বক ফর্সা করার উপায় গুলো জেনে আসি।
- মধু দিয়ে ত্বক ফর্সা করার জন্য আপনার প্রথমেই লেবুর রসের সাথে মধু মিশিয়ে ব্যবহার করবেন। এর জন্য দুই চা চামচ মধু ও দুই চা চামচ লেবুর রস একত্রে মিশিয়ে সেটি মুখের ওপর ভালোভাবে লাগিয়ে ম্যাসাজ করে নিবেন। আর মিশ্রণটি কমপক্ষে ২০ থেকে ৩০ মিনিট মুখে লাগানো অবস্থায় রেখে দেবেন। এরপর যখন মিশনটি শুকিয়ে যাবে তখন ঠান্ডা পানি দিয়ে মুখটি ধুয়ে ফেলবেন। এভাবে কিছুদিন ব্যবহার করলে আপনার ত্বক উজ্জ্বল হতে শুরু করবে।
- ১ চামচ টক দই ও দুই চামচ মধুর রস ভালোভাবে মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। এবার সেই মিশ্রণটি মুখে লাগিয়ে নিন। মিশ্রণটি মুখে ২০ মিনিট লাগিয়ে রাখার পর হালকা কুসুম গরম পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন। যাদের তৈলাক্ত ত্বক রয়েছে তারা এই পেস্ট তৈরি করে ব্যবহার করতে পারেন। তাছাড়া এটি ব্রণের সমস্যা দূর করতেও কার্যকরী।
- আপনারা চাইলে মধু ও পেঁপে ব্যবহার করে প্যাক তৈরি করতে পারেন। এই ফেসপ্যাক ব্যবহার করে শুষ্ক ত্বক দূর করা যায় এবং বয়সের ছাপ দূর করতে পারে। আপনাদের প্রথমেই ২ চামচ মধু নিয়ে তার সাথে দুই টুকরো পেঁপে ভালোভাবে মিশিয়ে নিতে হবে। আপনি মেশানোর জন্য ব্যালেন্ডার মেশিন ব্যবহার করতে পারেন। এবার মেশানো হয়ে গেলে মিশ্রণটি মুখের চারপাশে লাগিয়ে নিবেন। ১৫ মিনিট পর মিশ্রণটি ধুয়ে ফেলুন।
- এছাড়াও আপনারা ২ চা চামচ মধু ও এক চামচ চিনি নিয়ে মিশ্রিত করে ব্যবহার করতে পারেন। চিনি ও মধুর মিশ্রণটি মুখের উপর ১৫ মিনিট ধরে ভালোভাবে ম্যাসাজ করুন। তারপর ঠান্ডা পরিষ্কার পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে নিন। এভাবে প্রতি সপ্তাহে দুই থেকে তিন দিন ব্যবহার করলে মুখের মৃত কোষ দূর করা যায় এবং ত্বক উজ্জ্বল হয়ে ওঠে।
- মিল্ক ক্রিম ও মধু ব্যবহার করেও ত্বক ফর্সা করা যায়। এক্ষেত্রে এক চা চামচ মিল ক্রিম ও ২ চামচ মধু দিয়ে পেস্ট বানাতে হবে। এবার সেই পেস্টটি মুখ বা গলায় ভালোভাবে লাগিয়ে ১৫ মিনিট অপেক্ষা করতে হবে। তারপর মুখ ভালোভাবে ধুয়ে নিন। এটি ব্যবহার করলে ত্বকের বলিরেখা দূর হবে এবং ত্বকের স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা ফিরে আসবে।
- এক থেকে দুই চামচ মধুর সাথে সামান্য পরিমাণ কলা মেশিয়ে ফেসপ্যাক তৈরি করুন। অবশ্যই কলাটিকে পেস্ট বানাতে হবে, এজন্য ব্যালেন্ডার ব্যবহার করতে পারেন। এবার মিশ্রণটি মুখে ব্যবহার করুন। এই ফেসপ্যাকটি ত্বকের কালচে ভাব দূর করতে সহায়তা করে থাকে।
- দুই চামচ গোলাপ জল, এক চামচ হলুদ গুঁড়া ও দুই চা চামচ মধু একসঙ্গে মিশিয়ে সেটি মুখ ও গলায় ব্যবহার করুন। কমপক্ষে ১৫ মিনিট ব্যবহার করার পর পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলবেন। এটি ব্যবহার করলে ত্বকের উজ্জ্বলতা অতি সহজেই ফিরে আসবে।
প্রিয় বন্ধুরা আপনারা এতক্ষণে মধু দিয়ে ত্বক ফর্সা করার বিভিন্ন উপায় সম্পর্কে জানতে পারলেন। যেহেতু এগুলো ঘরোয়া উপায় সেক্ষেত্রে কার্যকর হতে সময় লাগবে।
আপনারা সকলে হয়তো জানেন ঘরোয়া উপায়ে ফর্সা হতে চাইলে অবশ্যই ধৈর্য সহকারে ব্যবহার করে যেতে হয়। তাই বলছি উপরের উপায় গুলো নিয়ম মেনে এক মাসের মত ব্যবহার করুন দেখবেন আপনার ত্বক ফর্সা হয়ে গেছে।
মধু দিয়ে রূপচর্চা
মধু বর্তমানে রূপচর্চার কাজে অধিক ব্যবহার করা হচ্ছে। কারণ এটি এমন একটি উপাদান যাতে প্রায় সকল ধরনের প্রাকৃতিক গুণাবলী ও পুষ্টিকর উপাদান উপস্থিত রয়েছে।
যেটি ত্বকে ব্যবহার করলে ভালো ফলাফল পাওয়া যায়। তাছাড়া আপনারা হয়তো জানেন মধু খেলে শরীরের স্বাস্থ্য ভালো থাকে, সে ক্ষেত্রে আপনারা মধু নিয়মিত খেতে পারেন। আর মধু দিয়ে রূপচর্চা করতে হলে কিছু উপায় ও নিয়ম মেনে চলতে হবে।
আরো জানুনঃ সহজেই মুলতানি মাটি দিয়ে ফর্সা হওয়ার উপায়
আরো জানুনঃ খালি পেটে কি খেলে সকালে মোটা হওয়া যায়
তবে বলে রাখা ভালো যেহেতু মধু প্রাকৃতিক উপাদান সেহেতু এটি ত্বকে কার্যকর হতে সময় লাগতে পারে। এজন্য আপনাদের মধু ত্বকে ধৈর্য ধরে ব্যবহার করতে হবে।
মধু ত্বকে ব্যবহার করলে ত্বকের স্বাস্থ্য ভালো থাকে এবং ত্বক ভিতর থেকে পরিষ্কার হতে থাকে। এর ফলে আমরা দেখতে পাই ত্বক উজ্জ্বল হতে থাকে। এছাড়াও ত্বকের সৌন্দর্য বাড়াতে মধু সাথে বিভিন্ন উপাদান মিশিয়ে ব্যবহার করতে পারেন।
কারণ ত্বক ও মুখের টানটান ভাব ধরে রাখতে মধুর ভালো উপকারিতা দিয়ে থাকে। বিশেষ করে ত্বক টানটান রেখে বয়সের ছাপ দূর করতেও সাহায্য করে।
মধুতে থাকা এন্টি ব্যাকটেরিয়াল উপাদানটি ত্বকের ব্যাকটেরিয়ার জনিত সমস্যা দূর করতে সহায়তা করে। এই উপাদান থাকার কারণে ত্বকের ব্রণ সমস্যা দূর করা যায়। এজন্য মুখের যে স্থানে ব্রণ হয়েছে সেই স্থানে নিয়মিত মধু ব্যবহার করুন তাহলে ব্রণ কমে যাবে।
মধুতে রয়েছে প্রায় অনেক ধরনের ভিটামিন ও মিনারেল যেটি ত্বক ভালো রাখার পাশাপাশি স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে।তাই আপনারা ত্বকের ব্যবহার করার পাশাপাশি প্রতিদিন মধু খেতে শুরু করুন।
এছাড়ো জানা গেছে মধু ত্বকের অ্যান্টিসেপটিক হিসাবে কাজ করে থাকে। যার ফলে ত্বকে বা মুখের যেকোনো ধরনের সমস্যা অতি সহজেই সমাধান করা যায়। আপনারা চাইলে প্রতিদিন সকালে অথবা রাতে ঘুমানোর আগে মধু মুখে ব্যবহার করতে পারেন।
প্রথমেই ভালোভাবে মুখ পরিষ্কার করে নিবেন। এরপর মুখ মুছে মধু মুখে ও ত্বকে ভালোভাবে লাগিয়ে নিবেন। ২০ মিনিট পর পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
এভাবে যদি আপনি নিয়মিত ব্যবহার করেন তাহলে আপনার মুখ সুন্দর হতে থাকবে এবং ত্বক সব সময় টানটান থাকবে। তাছাড়া আপনারা মধু আরও বিভিন্নভাবে ব্যবহার করে রূপচর্চা করতে পারেন যেগুলো আমরা আজকের এই পুরো পোস্টটিতে আলোচনা করব।
কালো ত্বক ফর্সা করার উপায়
আমরা যেহেতু আজকের পোস্টটিতে মধু দিয়ে ত্বক ফর্সা করার উপায় আলোচনা করেছি সে ক্ষেত্রে আমরা এখন কালো ত্বক কিভাবে মধু দিয়ে ফর্সা করবেন তা আলোচনা করব। মধু ব্যবহার করেও কালো ত্বক বা শ্যামলা ত্বক ফর্সা করা যায়।
প্রথমে আপনারা পাত্রে এক কাপ পানি নিয়ে ফুটিয়ে নিন। এবার সেই ফোটানো পানিতে কিছু পরিমাণ তিষি বীজ দিয়ে আবার কিছুক্ষণ পানি ফুটিয়ে নিবেন।
এরপর পাত্রে থাকা গরম পানি সহ বীজ হালকা ঠান্ডা হওয়ার পর কাপড় দিয়ে ছেকে তিসির জেল বের করে নিন। এভাবে জেল বের করে নেওয়া হয়ে গেলে আরো কিছু উপাদান যোগ করতে হবে।
একটি পরিষ্কার বাটিতে ৩ চামচ বেলের পাতা বাটা, ২ চা চামচ মধু, ৩ টেবিল চামচ তিসির জেল, এক চা চামচ জাফরান, হাফ চামচ লেবুর রস, এক চা চামচ হলুদ গুঁড়া ও অলিভ অয়েল তেল নিয়ে উপাদান গুলো ভালোভাবে মেশান।
মেশানো উপাদান গুলো পাত্রে নিয়ে ২০ মিনিট ধরে গরম করতে থাকুন। মিশ্রণটি গরম করা হয়ে গেলে ঠান্ডা হওয়ার জন্য ১০ মিনিট রেখে দিন। তারপর মিশ্রণ অর্থাৎ ফেসপ্যাকটি ঠান্ডা হয়ে গেলে ত্বকে ও গলায় ভালোভাবে মেসেজ করে ব্যবহার করুন।
ফেসপ্যাকটি অবশ্যই ২০ মিনিটের বেশিক্ষণ ধরে ত্বকের ব্যবহার করতে হবে। এরপর শুকিয়ে গেলে পরিষ্কার ঠান্ডা পানিতে ধুয়ে ফেলুন।
এভাবে যদি সপ্তাহে কমপক্ষে তিন দিন এই ফেসপ্যাকটি বানিয়ে ব্যবহার করতে পারেন তাহলে কালো ত্বক ফর্সা হতে শুরু করবে এবং শ্যামলা ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পেতে থাকবে।
মধু ও লেবুর রস মুখে দিলে কি হয়
মধু ও লেবুর রস ব্যবহার করে বিভিন্ন ধরনের ফেসপ্যাক বা ফেসিয়াল তৈরি করা যায় যেগুলো ব্যবহার করে মুখের যে কোন সমস্যা দূর করা যায়। বিশেষ করে মুখের কালচেভাব ও মুখের ব্রণ দূর করতে এটি ভালো কাজ করে থাকে। লেবুতে থাকা প্রাকৃতিক অ্যাসিড ত্বকের কালো দাগ দূর করতে পারে।
তবে যেহেতু লেবুতে প্রাকৃতিক এসিড রয়েছে সেক্ষেত্রে এটি পরিমাণ মতো ব্যবহার করতে হবে। অতিরিক্ত কখনোই কোন কিছু ব্যবহার করা উচিত নয়।
আপনার অনেকে আছেন যারা ঘরের বাইরে কাজ করে থাকেন সেক্ষেত্রে অনেক সময় রোদে মুখ ও ত্বক পুড়ে গিয়ে থাকে। এই পুড়ে যাওয়া কালো দাগ দূর করতে মধু ও লেবুর রস ব্যবহার করতে পারেন। কারণ এটি রোদে পোড়া দাগ দূর করতে সাহায্য করতে পারে।
তাছাড়াও ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে থাকে। সে ক্ষেত্রে আপনারা প্রতিদিন নিয়মিত মধু ও লেবুর রস মুখে ব্যবহার করবেন।
তবে বলে রাখা ভালো লেবুর রস অতিরিক্ত পরিমাণে ব্যবহার করবেন না, আর যথাসম্ভব লেবুর রস সরাসরি মুখে ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকবেন। এই লেবুর রস আপনারা মধুর সাথে মিশিয়ে ব্যবহার করতে পারবেন।
কিন্তু লেবুর রস সীমিত পরিমাণে ব্যবহার করবেন তাহলে ভালো ধরনের ফলাফল পাবেন। লেবুর রস আপনারা এক থেকে দুই চামচ করে ব্যবহার করবেন।
যেমনঃ দুই চামচ মধুর সাথে এক চামচ লেবুর রস মিশাবেন এবং সেটি ত্বকে ভালোভাবে ব্যবহার করবেন। তাহলে এর থেকে উপকারিতা বেশি পাওয়া যাবে।
রাতে মুখে মধু মাখার উপকারিতা
রাতে মুখে মধু ব্যবহার করলে মুখের ব্রণ দূর করা যায়। যাদের ত্বকে বা মুখে অতিরিক্ত পরিমাণে ব্রণ রয়েছে তারা নিয়মিত রাতে ব্রণের উপর মধু লাগিয়ে রাখতে পারেন।
কারণ মধুতে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ব্যাক্টেরিয়ারোধী উপাদান যেটি ত্বক পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে এবং ব্রণের সমস্যা দূর করতে সহায়তা করে।
এছাড়াও মুখে মধু ব্যবহার করলে মুখের ব্ল্যাকহেডস দূর করা যায়। আপনি যদি নিয়মিত রাতে মধু ব্যবহার করেন তাহলে এটি ত্বকের আদ্রতা বজায় রাখবে এবং শুষ্ক ও তৈলাক্ত ত্বক দূর করতে সাহায্য করবে।
কারণ এটি ত্বকের তৈলাক্ত ভাব কমাতে পারে এবং ত্বকের আদ্রতা বজায় রাখতে পারে। আপনারা তাহলে রাতে মুখে মধু মাখার বিভিন্ন ধরনের উপকারিতা সম্পর্কে জানতে পারলেন।
এখন শুধু আপনাদের সঠিক নিয়ম অনুযায়ী মধু মুখে ব্যবহার করতে হবে তাহলে এর থেকে ভালো ধরনের উপকারিতা পেতে পারেন।
মধু দিয়ে ব্রণ দূর করার উপায়
আমরা এখন মধু দিয়ে ব্রণ দূর করার নিয়ম ও উপায় আলোচনা করব।
- মধু দিয়ে ব্রণ দূর করার জন্য প্রথমে আপনারা উপায় হিসেবে শুধুমাত্র সরাসরি মধু ব্যবহার করতে পারেন। রাত্রে বা সকালে আপনারা মুখের ব্রণ জনিত স্থানে মধু লাগিয়ে রাখতে পারেন। এর জন্য মধু কয়েক ফোঁটা হাতে নিয়ে ব্রণের উপর আলতোভাবে ম্যাসাজ করে লাগিয়ে রাখুন। এরপর ১০ থেকে ১৫ মিনিট হয়ে গেলে ঠান্ডা পরিষ্কার পানিতে ধুয়ে ফেলবেন। কিছুদিন ব্যবহার করলে ব্রণের আকার ছোট হতে থাকবে এবং এক সময় দেখা যাবে ব্রণ দূর হয়ে যাচ্ছে।
- আপনারা আপেল কিছু পরিমাণ কেটে নিবেন এবং সেই আপেল দিয়ে পেস্ট তৈরি করবেন। এবার আপেলের পেস্ট এর সাথে মধু ২ চামচ মিশিয়ে নিবেন। এবার পেস্ট মুখে ব্রনের উপরে লাগিয়ে ব্যবহার করবেন। পেস্টটি ব্রনের উপরে শুকিয়ে গেলে মুখ পরিষ্কার করে ধুয়ে ফেলুন। এভাবে ব্যবহার করেও মুখে ব্রণ দূর করা যায়।
আপনারা তাহলে ভালোভাবেই মধু দিয়ে ব্রণ দূর করার কিছু উপায় সম্পর্কে জানতে পারলেন। আশা করছি কিছুদিন ব্যবহার করলে ভালো রকম ফলাফল পাবেন। তাই ধৈর্য সহকারে উপায় গুলো মেনে চলুন এবং ব্যবহার করুন।
মধু দিয়ে ফেসিয়াল
আপনারা চাইলে মধু দিয়ে ফেসিয়াল করতে পারেন। আপনার পুরো শরীরে অথবা ত্বকের যে কোন স্থানে মধু দিয়ে ফেসিয়াল করতে পারবেন।
মধুতে রয়েছে অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদান যার কারণে মধু ব্যবহার করলে ত্বকে জমে থাকা ময়লা দূর হয়। মূলকথা ত্বক পরিষ্কার করতে সাহায্য করে। এছাড়াও ত্বকের জ্বালাপোড়া ভাব দূর করতে পারে।
আপনারা চাইলে সরাসরি মধু গলায় ,ঘাড়ে ও মুখে লাগিয়ে রাখতে পারেন। তাছাড়াও মধুর ও শসার রস মিশিয়ে ব্যবহার করা যায়। প্রথমে আপনি শসার রস করে নেবেন এবং সেই রসের সাথে সামান্য পরিমাণ মধু মিশিয়ে মুখে অথবা গলায় ফেসিয়াল করুন। এভাবে ফেসিয়াল করলে দ্রুত ভালো ফলাফল পাওয়া যায়।
মুখে মধু ব্যবহারের নিয়ম
আপনারা চাইলে বিভিন্নভাবে মধু মুখে ব্যবহার করতে পারেন। তবে অনেকে আছে যারা মধু ব্যবহারের নিয়ম জানেনা, তাদের জন্যই এখন বিস্তারিত তুলে ধরবো। প্রথমে বলে রাখছি মুখটি ভালোভাবে পরিষ্কার করে নিবেন তারপর মধু ব্যবহার করবেন।
- এক টেবিল চামচ এ অ্যালোভেরা জেল ও এক চামচ মধু নিয়ে একত্রে মিশিয়ে মুখে ব্যবহার করুন। তবে ব্যবহার করার আগে মুখ ভালোভাবে পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে নিবেন। মুখে লাগিয়ে ১০ মিনিট পর পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এ ধরনের মিশ্রণ বানিয়ে ব্যবহার করলে ত্বকের কমলতা ভাব ফিরে আসে এবং ত্বক নরম ,সফট হয়।
- ২ চা চামচ মধু, এক চা চামচ এলোভেরা জেল ও দুই ফোঁটা গোলাপ জল ভালোভাবে মিশিয়ে নিবেন। এবার সেই মিশ্রণটি মুখে এবং গলায় ম্যাসাজ করুন। তারপর ধুয়ে ফেলুন।
- এক চা চামচ মধু ও অলিভ অয়েল তেল মিশিয়ে ত্বকে ব্যবহার করুন। আপনি চাইলে মুখে ব্যবহার করতে পারেন। মুখে ব্যবহার করার ১৫ মিনিট পর মুখ ধুয়ে নিতে হবে। এভাবে ব্যবহার করলে ত্বকের ময়লা দূর হয়।
- এক হাফ চামচ বেসন গুড়া, ১ চা চামচ দুধের গুড়া ও দুই চা চামচ মধু একত্রে মেশাতে হবে। এবার মেশানো ক্রিমটি মুখের চারপাশে এবং গলায় ব্যবহার করবেন। এভাবে ক্রিম বানিয়ে ব্যবহার করলে কিছুদিনের মধ্যেই ত্বকে ভালো ধরনের পরিবর্তন লক্ষ্য করবেন।
আমরা কিছু উপায় তুলে ধরেছি যেগুলো মেনে আপনারা মুখে মধু ব্যবহার করতে পারবেন। মুখে মধু ব্যবহার করার নিয়ম ও উপায়গুলো জেনে ব্যবহার করুন তাহলেই অতি দ্রুত ভালো ফলাফল পাবেন।
মধু দিয়ে ত্বক ফর্সা করার উপায় সম্পর্কিত সাধারণ জিজ্ঞাসা(FAQ)
প্রশ্নঃমধু ও দুধ মুখে দিলে কি হয়?
উত্তরঃ মধু ও দুধ মিশিয়ে মুখে ব্যবহার করলে এটি প্রাকৃতিক ক্লিনজার হিসাবে কাজ করে অর্থাৎ মুখের কালো দাগ দূর করতে সাহায্য করে। এছাড়া মুখের ময়লা পরিষ্কার করে থাকে।
প্রশ্নঃমধু ও চিনি মুখে দিলে কি হয়?
উত্তরঃ মধু ও চিনি মুখে ব্যবহার করলে মুখের ছিদ্রগুলো গভীরভাবে পরিষ্কার করা যায়। এছাড়াও মুখের ব্ল্যাকহেডস ও নাকের ব্ল্যাকহেডস এটি ব্যবহার করার ফলে দূর করা যায়।
প্রশ্নঃকফি আর মধু মুখে দিলে কি হয়?
উত্তরঃ কফি ও মধু একত্রে মিশিয়ে ব্যবহার করার ফলে ত্বকের ব্রণ দূর হয় এবং ত্বকের মৃত কোষ দূর করে উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করে থাকে।
প্রশ্নঃপ্রতিদিন মধু মুখে দিলে কি হয়?
উত্তরঃ প্রতিদিন মুখে মধু মাখলে ত্বকের উজ্জলতা বৃদ্ধি করা যায়, এছাড়াও ত্বকের শুষ্কতা ও জ্বালাপোড়া ভাব কমানো যায় এবং ত্বক টান টান রাখতে সাহায্য করে থাকে।
